সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পেয়ে বিপাকে শত শত গ্রাহক, থানায় পৃথক অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ও সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্ম-এর বিরুদ্ধে গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষ থেকে শাহরাস্তি মডেল থানায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে টাকা জমা দেওয়ার জন্য স্থানীয় দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের প্রলোভন ও আশ্বাস দেওয়া হতো। এসব আশ্বাসে অনেকে প্রতিষ্ঠান দুটিতে সঞ্চয় জমা করেন। পরে সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে।
শাহরাস্তির শোরশাক বাজারে অবস্থিত প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে করা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন সর্দারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, সংসারের কষ্টার্জিত টাকা নিরাপদে রাখার আশায় তিনি সমিতিতে সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।
রাগৈ গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী আয়শা বেগম জানান, তিনি প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতিতে ৯৮ হাজার ১৬ টাকা সঞ্চয় করেছেন। টাকা ফেরত চাইলে সমিতির কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গা বিক্রি করে পরিশোধ করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ তার।
রাগৈ গ্রামে অবস্থিত সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্মের বিরুদ্ধেও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ হোসেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রলোভনে পড়ে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা দেন। পরে সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত চাইলে নানা ধরনের টালবাহানার শিকার হতে হয়েছে। এতে তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোহাম্মদ হোসেন আরও জানান, সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্মে আরও কয়েকশ নিরীহ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ সঞ্চয়ের আশায় টাকা জমা দিয়েছেন। তবে টাকা ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী রাগৈ গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন কষ্ট করে জমানো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত না পাওয়ায় তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্মের কর্ণধার মো. আব্দুল মতিন সর্দার বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতি ও সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্মের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান দুটির পর্যাপ্ত পরিমাণ জমি রয়েছে। এসব জমি বিক্রি করে সব গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে গ্রাহকদের টাকা ঠিক কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।
শাহরাস্তি উপজেলা সমবায় অফিসার মো. মোতালেব খান বলেন, তিনি শাহরাস্তি উপজেলায় যোগদানের আগেই প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সমিতিটি বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমিতিটির অর্থনৈতিক অনিয়মের বিষয়ে জেলা অফিসে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। পরে জেলা সমবায় অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি শাহরাস্তি উপজেলায় এসে সমিতির কর্তৃপক্ষ কিংবা গ্রাহকদের সন্ধান পায়নি।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, শোরশাক বাজারে অবস্থিত প্রান্তিক বহুমুখী সমবায় সমিতি এবং রাগৈ গ্রামে অবস্থিত সর্দার বহুমুখী এগ্রো ফার্মের বিরুদ্ধে পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

