মাকে হত্যার পর কলাবাগানে লাশ ফেলে রাখে ছেলে, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

মাকে হত্যার পর কলাবাগানে লাশ ফেলে রাখে ছেলে, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

উপজেলা সংবাদ মতলব উত্তর উপজেলা স্লাইড

মতলব উত্তর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি নির্জন কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য আট দিনের মাথায় উদ্ঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিহত নারীর ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া জনি ও নিহত মজিদা বেগমের বাড়ি ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামে।

গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়ে যায়। মাথার খুলির চুল ঝরে পড়ে এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়ালে খেয়ে ফেলায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ করলেও প্রাথমিকভাবে মৃত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউল অংশ নেন। প্রতিদিন তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে মো. জনির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, মায়ের একাধিক বিয়ের কারণে তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন ২০২৬ তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। নিহতের পরিচয় কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় তদন্ত ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি তদন্ত দলের জন্য একটি কঠিন মামলা ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জঘন্য এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *