শাহতলীতে দুই বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

শাহতলীতে দুই বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ

উপজেলা সংবাদ চাঁদপুর সদর প্রধান সংবাদ ১

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এসব সমাবেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ভালো ফলাফল, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সকাল ১১টায় জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহসিন উদ্দিন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোহেল রুশদী উপস্থিত অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রচলিত পড়াশোনার পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকরভাবে পাঠদানের আওতায় আনতে হবে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভালো ফলাফলের জন্য তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই এই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁর দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম এ টি আহমেদ হোসাইন রুশদী জমি দিয়ে ১৯৬৫ সালে শাহতলীতে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সোহেল রুশদী বলেন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চারটি জিপিএ-৫সহ সন্তোষজনক ফলাফল করেছে। তবে জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির ওপর এর দায় আসে। জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাবী ও আন্তরিক। তাদের আরও নিবিড়ভাবে পরিচর্যা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হিরা নিয়মিত এ প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রাখেন। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। একইভাবে যেসব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদেরও পুরস্কৃত করা হবে। পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরাও পুরস্কার পাবে।

অসহায়, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণের প্রয়োজন হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে।

প্রাক-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস চালু, শতভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানোর লক্ষ্যে পাঠদান এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর জোর দেন সোহেল রুশদী। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে মাসে অন্তত একটি পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ঘোষিত নজরুল বর্ষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পড়াশোনাকে আনন্দময় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সোহেল রুশদী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাসমুখী করতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষেই তাদের পড়া আদায় করে নিতে হবে।

তিনি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ফলাফল খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও দায় নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের শিকার হলে দ্রুত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের প্রাইভেট পড়ানো যাবে না বলেও জানান।

সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক মো. হানিফ মিয়া ও মো. জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ।

এ সময় ২৯ নম্বর উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দিদার হোসেন মিজি, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, সহকারী শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মো. লৎফুর রহমান, বিপুল চন্দ্র নন্দী, মো. গিয়াস উদ্দিন, সুমন চন্দ্র সরকার, অফিস সহকারী মো. মোস্তফা কামাল, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো. রানা সরকারসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন পশ্চিম ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. ইব্রাহিম মিজি ও মো. লিটন মিজি।

এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

সমাবেশে ৩০ নম্বর মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তহমিনা আক্তার, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রুবিনা আক্তার, মেহেরুন্নেছা, সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর দে, মুহা. আবদুল মান্নান, মো. নেছার আহমেদ খান, সহকারী শিক্ষিকা মানছূড়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক মাহবুব আলম গাজী, প্রমথ সরকার, মনির হোসেন, সহকারী শিক্ষিকা বিথী আক্তারসহ শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিভাবক সমাবেশ শেষে সোহেল রুশদী জিলানী চিশতী কলেজের নির্মাণাধীন লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে সরকারিভাবে প্রাপ্ত ফুটবল বিতরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *