স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে ফলজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশন’।
সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, চাঁদপুর-এর উপপরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় কার্যালয়ের সড়কের পাশে উন্নত জাতের পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, সবুজায়ন সম্প্রসারণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পুষ্টিকর ফলের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, চাঁদপুর-এর উপপরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মোঃ ফখরুল ইসলাম এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড, চাঁদপুর-এর সমন্বয়ক মোঃ নুর জামাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি যুবসমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
কর্মসূচিতে বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রহমান রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবদুর রহিম রাজু এবং সদস্য রিহাবসহ সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রহমান রিজভী বলেন, বৃক্ষ মানুষের জন্য শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষারও অন্যতম ভিত্তি। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সচেতন, সবুজ ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করলে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীরা যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ করেন এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে চারাগুলো সংরক্ষণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে যুব উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির মতে, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর শক্তি।

