নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের গাবতলি বাজার ও দক্ষিণ বালিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, হুমকি এবং ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুরের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পরও পুলিশ হেফাজত থেকে মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ নম্বর হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রামের বালু ব্যবসায়ী মো. খলিলুর রহমান ছৈয়াল গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ চাঁদপুরের আমলী আদালতে সি.আর. ৪৬০/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলায় দক্ষিণ বালিয়ার বাসিন্দা মমিন বেপারি, মোস্তফা বেপারি এবং রাসেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত প্রথম ও দ্বিতীয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সংযোগ সড়কের খাসের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মমিন বেপারিকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।
মামলার বাদী মো. খলিলুর রহমান ছৈয়াল দাবি করেন, গ্রেপ্তারের পরও পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আসামি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ জুন ও ৪ জুলাই ২০২৬ গাবতলি বাজার এলাকায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা স্থানীয় কয়েকজনের দখলে ছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে দোষ প্রমাণ হয়নি। গ্রাম পুলিশ ইনচার্জ আব্দুর রশিদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত তখন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আসামির গ্রেপ্তারে গাবতলি বাজারসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও অনেকে এখনও প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের দাবি, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অভিযুক্তরা সুবিধা নিতে না পারে।
বাদীপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আসামির স্বজনদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

