মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণে পৃথক বিশেষ অভিযানে তিন মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত তিন আসামিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মানিকের নির্দেশক্রমে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় থানা পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে এসআই দেলোয়ার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মতলব পৌরসভার মোবারকদী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় জলিল মোল্লার বাড়ির সামনের সড়কে অভিযান চালান। এ সময় ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাসেম সওদাগর (৩৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি মোবারকদী গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় হাসেম সওদাগরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। থানায় তার বিরুদ্ধে আগের মামলাও রয়েছে।
একই দিনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মোবারকদী এলাকা থেকে মাদকসহ মো. কাউসার (২৩), মোবারকদী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার ধনপর্দী গ্রামের রবিন আখন্দকে (১৮) আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর এসআই দেলোয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ পৈলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাহিদকে গ্রেফতার করেন। তিনি আলমগীর হোসেনের ছেলে এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার পৈলপাড়া (যোগী বাড়ী) গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
জিআর ১০৩/২০ (সাজা) মামলায় জাহিদের ছয় মাসের সাজা ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছিল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপরদিকে এসআই ইমতিয়াজ কবীর সঙ্গীয় ফোর্সসহ খর্গপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারিবারিক মামলা নং-৪২৪/২০২৫-এর আসামি মো. কাউছারকে (৩৯) গ্রেফতার করেন। তিনি আবুল কাশেমের ছেলে এবং খর্গপুর গ্রামের বাসিন্দা।
একই সময়ে এএসআই (নিরস্ত্র) শিমুল চন্দ্র নাথ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পাঁচদোনা (নায়ের গাঁও) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নাঃশিঃ নং-৩১১/২১ মামলার আসামি মো. বোরহানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আইয়ুব আলীর ছেলে এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার পাঁচদোনা (নায়ের গাঁও) গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতার হওয়া আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আটক সব আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান চলছে এবং মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

