বাবাহীন পরিবারে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী সন্তান, ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন

বাবাহীন পরিবারে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী সন্তান, ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন

উপজেলা সংবাদ কচুয়া উপজেলা চাঁদপুর সদর ফরিদগঞ্জ উপজেলা মতলব উত্তর উপজেলা মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাহরাস্তি উপজেলা স্লাইড হাইমচর উপজেলা হাজীগঞ্জ উপজেলা

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আলগী পোলেরগোড়া এলাকায় বাবাহীন একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারের বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ, ১৬ বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী এবং মা-ও অসুস্থ। এর মধ্যে বসতঘরটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিবারটির কর্তা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ২০১৫ সালে মারা যান। সে সময় তার সন্তানরা সবাই ছিল ছোট। বাবার মৃত্যুর পর মামা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় কোনোভাবে তাদের বেড়ে ওঠা। তবে বর্তমানে মামাদের নিজেদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না থাকায় নিয়মিত সহযোগিতা করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের বড় ছেলে আ. রহিমের বয়স ২৪ বছর। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তার নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে অনেক সময় ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয় না। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওষুধ বন্ধ হয়ে গেলে তার অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়।

মেজো ভাই কাজ করলেও তার সামান্য আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ১৬ বছর বয়সী ছোট ছেলে রবিউল প্রতিবন্ধী। তার প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

পরিবারের একমাত্র মেয়ে চলতি বছর মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আর্থিক সংকটের মধ্যেও কোনোভাবে তার পড়াশোনার খরচ চালানো হয়েছে। এখন ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হওয়ার সময় হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ পরিবারের হাতে নেই। ফলে তার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে মেয়েটি পড়াশোনা অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায়।

শুধু চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় নয়, থাকার ঘর নিয়েও পরিবারটি চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ভাঙাচোরা ঘরটি বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। পরিবারের দুজন সদস্য ভাতা পেলেও সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়, যখন ঘরে রান্না করার মতো চালও থাকে না।

আ. রহিমের চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ, প্রতিবন্ধী রবিউলের প্রয়োজনীয় সহায়তা, মায়ের চিকিৎসা, পরিবারের খাবার, জরাজীর্ণ ঘর মেরামত এবং মেয়ের পড়াশোনার ব্যয়—সবকিছু মিলিয়ে পরিবারটির জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সহযোগিতা করার মতো সামর্থ্যবান আত্মীয়-স্বজনও বর্তমানে নেই। এ অবস্থায় কোনো সহৃদয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি-বেসরকারি সংস্থা চিকিৎসা, খাদ্য, ঘর মেরামত, শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ালে পরিবারটি সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৮৯৭০৯৬২৮১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *