কচুয়া প্রতিনিধি : কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের প্রসন্নকাপ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে গ্রামের টাওয়ার মোড় এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী আলম মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় তারা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ক্রয় করা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী আলম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রসন্নকাপ গ্রামের গনি মাস্টার বাড়ির শাহজালাল ও মুসলিমের কাছ থেকে তিনি ১২ শতাংশ জমি কিনেছেন। মুসলিম মিয়া তাঁর অংশের ৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও শাহজালাল ৬ শতাংশ জমির মূল্য নেওয়ার পরও তা রেজিস্ট্রি করে দেননি।
আলম মিয়ার দাবি, কেনা ১২ শতাংশ জমি তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমি রেজিস্ট্রির জন্য শাহজালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর স্ত্রী খাতেমা বেগম বারবার মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানি করছেন।
আলম মিয়া আরও বলেন, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আটটি মামলা সাজানো ও মিথ্যা। এসব মামলার কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সব মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আলী মিয়া, ইসমাইল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আয়েশা বেগম ও রুবেল হোসেন বলেন, শাহজালাল ও তাঁর ভাই মুসলিমের কাছ থেকে আলম মিয়া ১২ শতাংশ জমি কিনেছেন। বর্তমানে তিনি ওই জমি ভোগদখল করছেন। তাদের অভিযোগ, শাহজালালের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তাঁর বোন রোশনারা ও ভাতিজা রাশেদা বেগম বিভিন্ন মামলা দিয়ে আলম মিয়ার পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন।
তাদের ভাষ্য, মামলার কারণে আলম মিয়ার পরিবার আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও পরে বিচারকদের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফাতেমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামীর ৬ শতাংশ জমি আলম মিয়া জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িতে হামলা করা হয়েছে। তাঁর ভাসুরের মেয়ে রাশেদাকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফাতেমা বেগম বলেন, এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মালিকানা ও মামলা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

