স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। চলতি জুলাই মাসে রোগী বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ভর্তি হওয়া সব রোগীই চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান জানান, বছরের প্রথম কয়েক মাসে প্রতি মাসে একজন বা দুজন রোগী ভর্তি হলেও জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয় এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান।
ডা. মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়ির আশপাশ, ফুলের টব, ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির বোতলসহ যেখানে পরিষ্কার পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমি জ্বর দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা খাজুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন (৫৩) জানান, কয়েকদিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু ও টাইফয়েড শনাক্ত হয়। সেখানে চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চার দিন আগে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে তিনি আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ অনুভব করছেন।
মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা মো. শরীফ (২১) বলেন, স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার পর বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

