স্টাফ রিপোর্টার : মৌসুমের শুরুতেই চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বিক্রি হওয়া এই মাছটির দাম স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির ওজন ছিল ২ কেজি ৯৯০ গ্রাম। রাজধানী ঢাকার অনিক নামে এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ সীমিত থাকায় এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় এ ধরনের উচ্চমূল্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চাঁদপুর বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারের শান্তি আড়তের সম্রাট ব্যাপারী জানান, মাছটির প্রতি মণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬২৫ টাকা। বড় আকৃতির ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় বাজারে ভালো দাম মিলছে।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলে সুজনের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে বেশি দামের আশায় সেটি চাঁদপুরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছ বাজারে আনা হয়। বাজারে তোলার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী উচ্চমূল্যেই মাছটি বিক্রি হয়।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের মূল মৌসুম এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে দক্ষিণাঞ্চলের সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে ইতোমধ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। বড় আকৃতির ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় এসব মাছের বাজারমূল্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকছে।
সম্রাট ব্যাপারীর ভাষ্য, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দামে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে বড় ইলিশের সরবরাহ সীমিত থাকায় দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ইলিশের আহরণ বৃদ্ধি পেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামে ভারসাম্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত সরবরাহ ও উচ্চ চাহিদার কারণে বড় আকারের ইলিশ সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে অবস্থান করছে।

