কচুয়ায় শাশুড়িকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ 

কচুয়ায় শাশুড়িকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ 

উপজেলা সংবাদ কচুয়া উপজেলা প্রধান সংবাদ

কচুয়া প্রতিনিধি : কচুয়া উপজেলার বরুচর গ্রামে কুয়েতপ্রবাসী আবু মুসার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারকে তালাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। আবু মুসার অভিযোগ, তার বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা আমেনা বেগমের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালমন্দ ও মারধর করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের হুমকি-ধমকির কারণে তার দুই ভাই কবি আল-আমিন ও ইদ্রিস মিয়া প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আবু মুসা।

অন্যদিকে মাহমুদা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কোনো পূর্ব আলোচনা কিংবা সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ ছাড়াই একতরফাভাবে মাহমুদাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাহমুদা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৩ বছর আগে বরুচর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু মুসার ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পছন্দের ভিত্তিতে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে মনিরা আক্তার, মাকছুদা ও মাহমুদুল হাসান নামে তিন সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জীবিকার প্রয়োজনে কুয়েতে পাড়ি জমান আবু মুসা। দীর্ঘদিন সেখানে কাজ করার পর উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করেন বলে তিনি জানান।

আবু মুসার ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে তার বাবা মারা যান। এরপর তার বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা আমেনা বেগম ওই বাড়ির এক পাশে বসবাস করতেন। তার অভিযোগ, মাহমুদা আক্তার তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ, গালমন্দ ও মারধর করে মাহমুদার পক্ষের কয়েকজন মাতব্বরের কাছে তাকে রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বর্তমানে তার মা নিরুপায় হয়ে নবাবপুর এলাকায় তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আবু মুসা বলেন, “আমি আমার মাকে মাথায় তুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পবিত্র হজ পালন করিয়েছি। যে ঘরে আমার মায়ের জায়গা নেই, সেই ঘরে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে পারি না। তাই আমি মাহমুদা আক্তারকে তালাক দিয়েছি।”

এ ছাড়া আবু মুসার অভিযোগ, ঘটনার জেরে গ্রামের হারুন, সফিক, কেফায়েত উল্যাহ, আবুল খায়েরসহ কয়েকজন তার ছোট ভাই আল-আমিনকে মারধর করে হাত ভেঙে দেন। পরে আল-আমিনের স্ত্রী-সন্তানদেরও মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আবু মুসা আরও অভিযোগ করেন, তার একটি টেলিভিশন, আল-আমিনের একটি অটোরিকশা, ছোট ভাই ইয়াকুবের একটি মোটরসাইকেল এবং সবার ছোট ভাই ইদ্রিসের ঘরের দুটি খাট ও দুটি ফ্রিজ অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগ মাহমুদা আক্তারের পরিবার অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ঘটনাগুলো সম্পর্কে আবু মুসার বক্তব্য সঠিক নয়। তাদের পক্ষ থেকে তালাকের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

মাহমুদা আক্তারের বাবা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ আগস্ট চাঁদপুরের বিজ্ঞ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে আবু মুসা তার মেয়েকে তালাক দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে তালাক দেওয়ার আগে মাহমুদা কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে চান।

অন্যদিকে আবু মুসা জানিয়েছেন, তার সন্তানদের দায়িত্ব তিনি অবশ্যই গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *