৫০ কেজির বস্তায় মিলল ৪২ কেজি সিমেন্ট, তদন্ত শুরু

৫০ কেজির বস্তায় মিলল ৪২ কেজি সিমেন্ট, তদন্ত শুরু

উপজেলা সংবাদ প্রধান সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে ৫০ কেজি লেখা সেভেন হর্স সিমেন্টের বস্তায় নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম সিমেন্ট পাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে মামলা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন জানান, নিজের স-মিলের ভবন নির্মাণকাজের জন্য তিনি ৫০ বস্তা সেভেন হর্স সিমেন্ট কিনেছিলেন। নির্মাণস্থলে নেওয়ার পর সন্দেহ হলে বিক্রেতার উপস্থিতিতে কয়েকটি বস্তার ওজন ডিজিটাল স্কেলে পরীক্ষা করা হয়।

তার দাবি, প্রথম বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজি ওজন পাওয়া যায়। পরে আরও দুটি বস্তা পরিমাপ করলেও নির্ধারিত ওজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ধরা পড়ে। তিনটি বস্তার মোট ওজন ১৫০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও স্কেলে পাওয়া যায় ১৩৮ কেজি।

ওজন পরীক্ষার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সেভেন হর্স সিমেন্টের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. ফয়সাল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে মামলা করার হুমকি দেন। একই সঙ্গে পূর্বে প্রকাশিত ভিডিও অপসারণ এবং কোম্পানির পক্ষে সংবাদ প্রকাশের জন্য চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে সেভেন হর্স সিমেন্টের চাঁদপুর জোনের এরিয়া ম্যানেজার মতিউর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে কয়েকটি বস্তায় ওজনের ঘাটতি পাওয়া গেছে এবং সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পরিবহনের সময় কোনো বস্তা ছিঁড়ে গেলে ট্রলারে নতুন বস্তায় সিমেন্ট স্থানান্তর করা হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজনের তারতম্য হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে ওজন পরীক্ষা করেন। চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, পরীক্ষায় কয়েকটি বস্তায় নির্ধারিত ওজনের তুলনায় সর্বোচ্চ ৮ কেজি পর্যন্ত ঘাটতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমি চাই, আমার মতো আর কোনো ক্রেতাকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।”

বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে ওজন ঘাটতির প্রকৃত কারণ এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *