স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের পাশে অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করে বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রায় এক মাস ধরে চলমান এ ভরাট কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত সড়ক বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, খাজা আহম্মদ নগরের দক্ষিণাংশে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘ একটি এলাকা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু এই স্থানই নয়, একই সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন স্থানে এভাবে জায়গা ভরাট ও দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের অবৈধ দখলের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরাটকৃত জায়গার নিকটবর্তী এলাকায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের জন্য জমি অধিগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই দ্রুততার সঙ্গে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের ওহাব খানের ছেলে শরীফ খান ও তার সহযোগীরা সংশ্লিষ্ট জমিতে বালু ভরাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ভরাটকৃত জমির মূল মালিক খাজা আহম্মদ নগর কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমির মালিকানা গ্রহণের পর শরীফ খান ও তার সহযোগীরাই জায়গাটি ভরাট করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শরীফ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে বারবার কল করা হলেও আর সাড়া পাওয়া যায়নি।
শরীফ খানের একজন অংশীদার আল-আমিন বলেন, প্রায় ৫৫ শতাংশ ভরাটকৃত জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে বায়নামূলে নেওয়া হয়েছে। জমিটির একাধিক অংশীদার রয়েছেন। তবে সড়ক বিভাগ বা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, এ ধরনের ভরাট কার্যক্রমের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি এবং প্রশাসনের কাছেও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সওজ সড়ক বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের পাশে বালু ভরাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নোটিশ জারির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশের জায়গা বিধি অনুযায়ী লিজের মাধ্যমে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু যারা বর্তমানে বালু ভরাট করেছেন, তারা সড়ক বিভাগের কোনো অনুমোদন নেননি। জনবল সংকটের কারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে কিছুটা সময় লাগলেও অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সাধারণত যানবাহন চলাচল সুবিধার জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোকে লিজের আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।

