কচুয়া প্রতিনিধি : কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহিমানাগর প্রবহমান খাল বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল এবং বাজার এলাকার বর্জ্য ফেলার ফলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শতবর্ষী এ খালের দুই পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা। কোথাও টিনশেড ঘর, কোথাও বহুতল ভবন, আবার কোথাও আরসিসি পিলারের ওপর নির্মিত পাকা দোকান খালের জায়গা দখল করে আছে। ধারাবাহিক দখলের কারণে খালটি অনেক স্থানে সরু নালায় পরিণত হয়েছে, আবার কিছু অংশে এর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় রহিমানাগর খাল ছিল এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের অন্যতম সহায়ক জলপথ। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে এটি প্রায় মৃত খালে পরিণত হয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় জনজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার হয়েছে রহিমানাগর বাজারসংলগ্ন অংশ। মাংস বাজার, মুরগি বাজার, সবজি বাজার, পান-সুপারি বাজার এবং সেতু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিয়মিতভাবে খালে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়রা খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দ্রুত খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো খালটি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রহিমানাগর বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, খালটি একসময় এলাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে এটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে দ্রুত খাল পুনঃখনন জরুরি।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল জানান, উপজেলার বিভিন্ন খাল পুনঃখননের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিগগিরই খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

