মতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে ১৬ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্রের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য তার বাবার হাতে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে পরিমল চন্দ্র কিশোরীকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে দরজা বন্ধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ১০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও পরিবারের দাবি।
সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মা বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে কিশোরী পরিবারের কাছে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, কিশোরীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য অভিযুক্ত পরিমল চন্দ্র তার বাবা সুজন সরকারের হাতে ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা সুজন সরকার নিজেও একজন প্রতিবন্ধী। নৌকায় মানুষ পারাপার করে তিনি সংসার চালান। এক ছেলে ও দুই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি ঘরে তাদের বসবাস। মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তিনি।
কিশোরীর মামাতো ভাই ভোজন সরকার বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সুষ্ঠু সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রণজিৎ বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। পরে জানতে পেরে বুধবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে বসার কথা ছিল। তবে তার আগেই সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এখন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত পরিমল চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

