ট্রান্সফরমার চুরিতে চাঁদপুরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে

Uncategorized চাঁদপুর সদর স্লাইড

ট্রান্সফরমার চুরিতে চাঁদপুরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে

আনিছ আহমেদ রাসেল :  জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বাড়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে অনেক এলাকার বাসিন্দাদের। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে নতুনটি স্থাপনে সময় লাগায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় চুরির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে চুরির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো প্রতিবেদনে আগস্ট পর্যন্ত ২৮টি, আবার কোথাও দেড় মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মতলব উত্তর ছাড়াও হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। কোনো এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।

সম্প্রতি একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় অর্ধশতাধিক পরিবার প্রায় ১৫০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা ও কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা তামার তার ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতব উপকরণই চোরচক্রের প্রধান লক্ষ্য। চুরি করা ট্রান্সফরমার খুলে এসব ধাতব অংশ সংগ্রহ করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। গত ২১ আগস্ট মতলব উত্তরে খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

এরপর ২৫ আগস্ট ট্রান্সফরমার চুরির মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটকের পাশাপাশি একটি পিকআপ জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা করে ট্রান্সফরমার চুরি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তারা চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি হওয়া এলাকায় দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ট্রান্সফরমার চোরচক্রের পাশাপাশি চুরি করা মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে গ্রাহকদের দীর্ঘ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতার দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *