স্টাফ রিপোর্টার : মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় সারা দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত। তাঁর এই অর্জনে চাঁদপুর সরকারি কলেজের পাশাপাশি জেলার শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় শ্রমিকের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণমূলক রচনা উপস্থাপন করেন সামিরা। তাঁর লেখা বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করে এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান লাভের মাধ্যমে তিনি জেলার জন্য সম্মান বয়ে আনেন।
এ উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আবৃত্তি, বক্তৃতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে সামিরা মেহনাজ নুসরাত ইতোমধ্যে নিজেকে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর আগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
এছাড়া জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে জেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বাংলা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, নির্ধারিত বক্তৃতা এবং জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাসহ উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সামিরা মেহনাজ নুসরাত বলেন, জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এই স্বীকৃতি তাঁকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি জানান, এই অর্জনের পেছনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের অক্লান্ত উৎসাহ, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
সামিরার এই সাফল্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং চাঁদপুরবাসী আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এ অর্জন শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং জেলার শিক্ষাঙ্গনের জন্য গর্বের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

