মোঃ নাছির আহমেদ : হাইমচর উপজেলার আলগী বাজারের আলিফ নিউ মার্কেট থেকে বিজয় কুমার ঘোষ (৪৫) নামে এক স্বর্ণের দোকানের কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে হাইমচর থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত বিজয় কুমার ঘোষ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি আলগী বাজারের আলিফ নিউ মার্কেটে অবস্থিত ‘মাতৃ শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দোকানের মালিক মধু ঘোষের ভগ্নীপতি বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে দোকানের ভেতরে বিজয় কুমার ঘোষের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান আশপাশের ব্যবসায়ীরা। পরে তারা বিষয়টি হাইমচর থানা পুলিশকে জানালে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি মার্কেটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ঘটনার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করেন। তবে মার্কেটে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বেশ কয়েকটি অকার্যকর থাকায় তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আলিফ গোল্ড মার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্যামেরাই বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এমন ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও হাইমচর উপজেলা জুয়েলারি সমিতির নিয়মিত তদারকির অভাব এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
হাইমচর থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

