সুতার আড়ালে মতলবে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের গোপন বাণিজ্য

সুতার আড়ালে মতলবে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের গোপন বাণিজ্য

উপজেলা সংবাদ প্রধান সংবাদ

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান : মতলব দক্ষিণ উপজজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে এ জাল বিক্রি না হলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুতা বিক্রির আড়ালে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমজুড়ে উপজেলার খাল, বিল ও ফসলি মাঠে এ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পোনা মাছ ও মা মাছ নির্বিচারে নিধন হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।

সম্প্রতি উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর উপাধি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি মাঠে পেতে রাখা চায়না দুয়ারি জাল দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার তোলা এমন একটি দৃশ্য স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি জেলেরা খাল-বিল ও মাঠে এসব জাল বসিয়ে মাছ শিকার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ খাল-বিল ও মাঠের পানিতে বিচরণ করে। কিন্তু চায়না দুয়ারি জালের কারণে ডিম, রেণু, পোনা ও বড় মাছ—সবই একসঙ্গে ধরা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

ডিঙাভাঙা গ্রামের বাসিন্দা আলম শেখ বলেন, আগে বর্ষার সময় ফসলি মাঠ ও বিলের মাছ পুকুরে চলে আসত। এখন মাঠে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই চায়না দুয়ারি জাল পেতে পোনা মাছ ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে পুকুরে আর আগের মতো মাছ আসে না। তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক অভিযান ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণার দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মৌসুমি জেলে জানান, তারা রিং চাই দিয়ে মাছ শিকার করেন। তাদের অভিযোগ, চায়না দুয়ারি জালের ব্যবসায় বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এ কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর উপাধি ইউনিয়নে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন হাটবাজারে সুতা বিক্রির দোকানের আড়ালে গোপনে এ জালের বেচাকেনা চলছে। দোকানে সাধারণ সুতার জাল রাখা হলেও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল সংরক্ষণ করা হয় বাড়ি কিংবা আলাদা গুদামে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতা দোকানে এসে দরদাম চূড়ান্ত করলে তাকে টোকেন দিয়ে নির্ধারিত গুদাম বা বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে ফোনের মাধ্যমে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মৌসুমি মাছ শিকারিরা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে এসব চায়না দুয়ারি জাল কিনে থাকেন।

একজন চায়না দুয়ারি জাল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে এই জাল বিক্রি করছি। তাই তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।”

পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *