আনিস আহমেদ রাসেল : চাঁদপুর শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান চাঁদপুর লেকপাড় এবং অঙ্গীকার ভাস্কর্য দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম হলেও লেকপাড়ের রাস্তা, নিরাপত্তা অবকাঠামো ও সৌন্দর্যবর্ধনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লেকপাড়ের প্রধান সড়কের পাশের ইট অনেক জায়গায় সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। একই সঙ্গে লেকের পানি বাড়লে রাস্তার পাশের সেফটি বাউন্ডারির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায়।
চাঁদপুর লেকপাড়ে প্রতিবছর সাঁতার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অঙ্গীকার ভাস্কর্যে জাতীয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হলেও এটিকে আরও নান্দনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি।
বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত লেকপাড় ও অঙ্গীকার চত্বরে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। দূর থেকে স্থানটি আকর্ষণীয় মনে হলেও কাছাকাছি গেলে রাস্তার পাশে ইট খসে পড়া ও অবকাঠামোর অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, চাঁদপুর শহরে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মতো উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় স্থান খুবই সীমিত। তাই শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা নিয়মিত লেকপাড়ে আসেন। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থানটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের মতে, লেকপাড়ের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ স্থাপন, দর্শনার্থীদের জন্য সাম্পান নৌকার ব্যবস্থা, লেকের মাঝখানে পানির ফোয়ারা নির্মাণ এবং রাতের সৌন্দর্য বাড়াতে আধুনিক আলোকসজ্জা স্থাপন করা হলে চাঁদপুর লেকপাড় জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

