পৌরসভার ভোটার হলেও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত বেদে পরিবার

পৌরসভার ভোটার হলেও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত বেদে পরিবার

উপজেলা সংবাদ চাঁদপুর সদর প্রধান সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ নম্বর চৌধুরী ঘাট এলাকার বেদে পল্লীর প্রায় দুই শতাধিক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তারা নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও পৌরসভার প্রত্যাশিত সেবা থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেদে পল্লীর বাসিন্দারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে বসবাস করছেন। একদল নৌকায় বসবাস করে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদল ডাকাতিয়া নদীর তীরে ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

পল্লীর স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, তারা প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, বেদে পল্লীতে দুই শতাধিক ভোটার রয়েছেন এবং পৌরসভা নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচনে তারা নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন।

শাহ আলমের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ভোট চাইতে বেদে পল্লীতে আসেন এবং বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, সাবেক পৌর মেয়র নাসির ভূঁইয়াও নির্বাচিত হওয়ার পর এসব সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের পর আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাদের নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হয়। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয় বলে জানান তারা।

নদীর তীরে বসবাসের কারণে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বলে জানান বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একই স্থানে বসবাস করলেও এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

বেদে পল্লীর বাসিন্দারা বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের কাছে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের আশা, এসব মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত হলে সন্তানদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং তারা সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *