মতলব দক্ষিণে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণে সুমি আক্তার (২৬) নামে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেননি; তাকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমি আক্তার কালিকাপুর গ্রামের মোহাম্মদ মতিন গাজীর স্ত্রী। ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের তাবাসসুম ও আলিফা নামে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে সুমি আক্তারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মতিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের মা রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে মতিনের সঙ্গে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য মতিন বিভিন্ন সময়ে সুমিকে মারধর করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে এবং মামলাও হয়েছিল।
রোকেয়া বেগম আরও জানান, বিয়ের বিষয়টি গোপন করে মতিন আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। এ বিষয়সহ বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। পারিবারিকভাবে বিষয়গুলো মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের মামা হান্নান বলেন, বিয়ের পর থেকেই সুমিকে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে এরপরও সুমির ওপর নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হান্নানের ভাষ্য, ঘটনার পর সুমির শ্বশুরবাড়ি থেকে তাদের জানানো হয়, তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মরদেহ দেখে তাদের কাছে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। তাদের দাবি, সুমিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, সুমি আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

