ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে দম্পতি আহত, আসামি গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিজ সম্পত্তিতে হাল চাষ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। এ ঘটনায় মনির হোসেন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর মিজানুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আষ্টা গ্রামে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আষ্টা গ্রামের ব্যবসায়ী মনির হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ও তাঁর স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার মনির হোসেন তাঁর জমিতে হাল চাষ করতে গেলে ওয়াহেদ গং বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
মনির হোসেনের অভিযোগ, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাঁর হাতে গুরুতর জখম হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সুমাইয়া আক্তারও মাথায় আঘাত পান।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন মনির হোসেন। মামলায় মিজানুর রহমান, ফরিদ হোসেন, নাহার বেগম ও জোৎসনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার বাদী মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সুযোগ থাকলেও প্রতিপক্ষ অস্ত্র ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। হাত দিয়ে প্রতিহত করায় মাথা রক্ষা পেয়েছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এ কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
মনির হোসেন জানান, জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেছেন। ভূমি অফিস ও থানায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ সেখানে সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। একটি বিতর্কিত দলিলের মাধ্যমে তারা জমির মালিকানা দাবি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে মিজানুর রহমানের খালাতো ভাই ও গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মনির পাটওয়ারী তাঁর কাছেও একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য এসেছেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষকে বসিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও ওয়াহেদ পাটওয়ারী সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বিষয়টির সমাধান হয়নি।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি পরে ভূমি অফিস ও থানায়ও গড়ায়। সেখানেও সঠিক কাগজপত্র দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ মনির পাটওয়ারী ওই জমিতে হাল চাষ করতে গেলে ওয়াহেদ পাটওয়ারীর সঙ্গে মারামারি হয়। তবে তাঁর খালাতো ভাই মিজানুর রহমান ওই সময় সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মনির পাটওয়ারী বিষয়টি তাঁকেও জানিয়েছেন। তিনি আবদুল ওয়াহেদকে বিষয়টি জানিয়ে উভয় পক্ষকে বসে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ওয়াহেদ বসতে রাজি হননি এবং আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদ উল্ল্যাহ জানান, মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

