মতলব প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজার এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে এ পাইপ বসানো হয়েছে। এতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেতরে ফাঁপা তৈরি হওয়ায় যে কোনো সময় সড়ক ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে আল-বারাকা মডেল স্কুলসংলগ্ন চাঁদপুর–বাবুরহাট–মতলব–পেন্নাই আঞ্চলিক সড়কের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জিসান আহমেদের মালিকানাধীন ড্রেজারের মাধ্যমে খাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রানা প্রধানের প্রভাব ও সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ সড়কটি চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন এ পথে চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সড়কটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আগে ড্রেজারের পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া হলেও এবার নতুন পদ্ধতিতে সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। দ্রুত পাইপ অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভারী যান চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজারের মালিক হিসেবে অভিযুক্ত জিসান আহমেদ প্রথমে নিজেকে ড্রেজারের মালিক নন বলে দাবি করেন। পরে সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে পাইপ স্থাপনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
অন্যদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রানা প্রধান মুঠোফোনে বলেন, তিনি ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। প্রথমে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রস্তাবিত নারায়নপুর পৌরসভার (বর্তমান নারায়নপুর ইউনিয়ন) চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, রানা নামের একজন ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছেন, যার ফলে সড়কের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করবেন বলে জানান।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, বিষয়টি সদ্য তার নজরে এসেছে। দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে। অবৈধভাবে পাইপ স্থাপন কিংবা সড়কের ক্ষতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

