স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর জন্ম দেওয়া পিতৃপরিচয়হীন নবজাতক কন্যার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। রোববার (৫ জুলাই ২০২৬) সকালে তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মা ও নবজাতকের খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিশুটির জন্য উপহার প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, মা ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যে পরিবার শিশুটির নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে, তাদের কাছেই শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে।
এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. কাজলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী একই পোশাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। তার অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করে চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিকবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার চেষ্টা করলেও তার অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম জানান, তিনি প্রথমে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে কিশোরীটিকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। পরে মানবিক কারণে তাকে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং প্রসববেদনা শুরু হলে শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) রাত ১১টার দিকে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানে শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) তিনি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই কিশোরী নিজের পরিচয় কিংবা সন্তানের পিতার বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারছেন না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান বলেন, মা ও নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মানবিক বিষয় বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে।

