শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত ভবন ও চির্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বর্জ্যের স্তূপ জমেছে। মাত্র একশ গজের মধ্যে থাকা তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এসব ময়লার পাশ দিয়ে চলাচল করছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নয়ারহাট বাজার থেকে চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দিকে যাওয়া সড়কের পাশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনের ভেতরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
একইভাবে চির্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেও নিয়মিত বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে দুই জায়গাতেই বড় আকারের ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।
ময়লা-আবর্জনা পচে এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এর মধ্যে সড়কের পাশেই রয়েছে চির্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলবেরুনী কেজি ফ্রি ক্যাডেট স্কুল এবং চির্কা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ী মাহিন সরকার ও আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নয়ারহাট বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা ওই দুটি স্থানে ফেলা হচ্ছে। সেখানে ময়লা না ফেলতে বারবার নিষেধ করা হলেও নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সেখানেই বর্জ্য ফেলছেন।
তাঁদের ভাষ্য, ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উদ্বেগের।
নয়ারহাট বাজারের ইজারাদার ইমন গাজী স্কুলের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তবে কৃষি অফিসের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে ময়লা ফেলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর মো: শামসুদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু এতে কেউ কর্ণপাত করছে না। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লোকজন দিয়ে বারবার জায়গাটি পরিষ্কার করা হলেও আবার সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, আগে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে ফেলা হতো। সেখানে ময়লা ফেলতে নিষেধ করার পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। তবে এখনো ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নির্ধারণ করা হয়নি। নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে ময়লা ফেলার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

