চাঁদপুর ভাঙ্গারি সমিতির তহবিল নিয়ে সদস্যদের প্রশ্ন

চাঁদপুর ভাঙ্গারি সমিতির তহবিল নিয়ে সদস্যদের প্রশ্ন

উপজেলা সংবাদ চাঁদপুর সদর স্লাইড

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নামে দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সেই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব না দেওয়া এবং সদস্যদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক হিসাব প্রকাশ এবং সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর আগে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমজীবীদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমিতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বর্তমানে সংগঠনটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির। সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা প্রদানকারী কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়িক সংকট, চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সমিতির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা তারা পাননি। একই নেতৃত্ব দীর্ঘদিন সংগঠন পরিচালনা করলেও সদস্যদের কল্যাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও তাদের অভিযোগ।

ব্যবসায়ী হেদায়েতুল্লাহ বলেন, সমিতির অস্তিত্ব থাকলেও সদস্যদের বাস্তব কোনো উপকারে আসছে না। ওয়ারলেস বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সদস্যরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অপর ব্যবসায়ী ফরহাদ মিয়া বলেন, ভাঙ্গারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষ ও পথশিশুদের কল্যাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। স্বর্ণখোলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, অতীতে সমিতির মাধ্যমে কিছু সুবিধা পাওয়া গেলেও বর্তমানে আগের মতো কার্যক্রম নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্দুল হালিম নিজেকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মিয়া বলেন, কিছুদিন ধরে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সদস্যদের নিয়ে শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সমিতির সভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, সংগঠনটি ব্যবসায়ীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সমিতির কোনো তহবিল নেই এবং অতীতে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিটি গঠন এবং আর্থিক হিসাব পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ বলেন, সমিতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল সমিতির আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ তদন্ত, হিসাব প্রকাশ এবং সদস্যদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *