নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়েছে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জেলার আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লিগ্যাল এইডের প্রতি আস্থা বেড়েছে এবং ক্রমেই বেশি মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা নিতে এগিয়ে আসছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর জেলা জজকোর্টের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে শরাফ উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি জুন মাসে আইনগত সহায়তার জন্য ২৩টি নতুন আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলো ২৩ জন আইনজীবীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকজন আইনজীবী দুই থেকে তিনটি মামলার দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন।
সভায় উপস্থাপিত জুন মাসের কার্যক্রমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ সময়ে ১৫২ জনকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ১২০টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি আরও ২১টি মামলা সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে। অনুপস্থিতি ও নথি-সংক্রান্ত জটিলতায় ৩২টি এবং আপোষে সমাধান না হওয়ায় ৮টি মামলাসহ মোট ৬১টি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) শরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রচার-প্রচারণা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লিগ্যাল এইডের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অধিকসংখ্যক মানুষ এখন সরকারি এই আইনগত সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করছেন।
তিনি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধে জড়িয়ে থাকা অসহায়, দরিদ্র ও আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত মানুষকে লিগ্যাল এইডের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনসচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইনগত সহায়তা কেবল কোনো পক্ষকে মুক্তি দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক পক্ষ, এমনকি আসামিকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের ইতিবাচক কার্যক্রম প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে আরও বেশি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, জেলা কারাগারের সুপার শেখ জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এবং অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার।
সভায় লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (২য় আদালত) কোহিনুর আক্তার, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান নিপা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সাল, জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান, উপজেলা সমন্বয়কারী সগির আহমেদ সরকার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট বিধু ভূষণ নাথ এবং সাংবাদিক অ্যাডভোকেট চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম।
সভা পরিচালনা করেন চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আব্দুল আলীম।

