স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘নদীমাতৃক’। শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পকলা একাডেমি সাংস্কৃতিক কর্মীদের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। গত বছরের ৫ আগস্টের হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম পুনর্গঠনের বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে তিনি চাঁদপুরে এসেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আমন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুরো আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল ও দলগত প্রচেষ্টার একটি সুন্দর উদাহরণ।
তরুণ শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ মঞ্চে পরিবেশনাকারীদের অনেকেই ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক ভূপ্রকৃতির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী সংকটের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও পানির স্বল্পতা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত পানি পেয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তি ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তার যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম একজন সংস্কৃতিমনা ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার কারণেই তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য বলেন, চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুর্বৃত্তদের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু হলেও একাডেমিকে পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে আনতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মোস্তফা মিয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহাবুব আনোয়ার বাবলু, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুনির চৌধুরী, সহ-সভাপতি ডি এম শাহাজাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মোশাররফ হোসাইন, অ্যাড. সামছুল ইসলাম মন্টুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ঢাকা ও চাঁদপুরের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।

