ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব সাহাপুর গ্রামের হোনার বাড়িতে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের বসতঘরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্ত পক্ষ জানিয়েছে, তারা নিজেদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে বেড়া দিয়েছেন এবং হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আমিন উল্লাহ পাটোয়ারীর বসতঘরের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এ কারণে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী আমিন উল্লাহ পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার ভাতিজা জসীমউদ্দীনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৭০ জন লোক এসে বসতঘরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে। এ সময় বাথরুম, গোসলখানাসহ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
আমিন উল্লাহ পাটোয়ারীর মেয়ে ফাতেমা বেগম বলেন, প্রায় ১৩ শতক জমি নিয়ে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। বিচারাধীন অবস্থায় এভাবে জোরপূর্বক বেড়া দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।
অভিযুক্ত জসীমউদ্দীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বাবা বহু বছর আগে আমিন উল্লাহ পাটোয়ারীর কাছ থেকে ৩০ শতক জমি বৈধভাবে কিনেছেন। বর্তমানে তার চাচা যে জায়গায় বসবাস করছেন, সেটিও ওই ক্রয়কৃত জমির অংশ বলে দাবি করেন তিনি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় নিজেদের সম্পত্তি সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাকিবুল হাসান জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তি নিয়ে এ ধরনের বিরোধ সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

