কয়েক মাসেই ফরিদগঞ্জে ৭১ লাখ টাকায় নির্মিত সড়কে ধস : ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কয়েক মাসেই ফরিদগঞ্জে ৭১ লাখ টাকায় নির্মিত সড়কে ধস : ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

উপজেলা সংবাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্লাইড

শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরদুঃখিয়া গ্রামে প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ ও গাফিলতির কারণেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, রামপুর-সোলাখালী সড়ক থেকে সন্তোষপুর বাউন্ডারি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশন।

রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, চরদুঃখিয়া গাজী বাড়ির সামনের পুকুরপাড়সংলগ্ন অংশে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া হলে চলমান বর্ষায় ধস আরও বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, শাহাদাত হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পুকুরপাড়ে নির্মিত গাইডওয়াল শুরু থেকেই দুর্বল ছিল। তাদের দাবি, পুকুরটি গভীর হওয়ায় গাইডওয়াল আরও শক্তভাবে নির্মাণের অনুরোধ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা গুরুত্ব দেয়নি।

তাদের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে সড়ক ভরাটের জন্য গাইডওয়ালের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে গাইডওয়াল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। চলতি বর্ষার বৃষ্টিতে সেই দুর্বল অংশে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সংস্কার না হলে সড়কের আরও বড় অংশ পুকুরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে নির্মিত একটি সরকারি সড়কের এমন অবস্থা জনদুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত তদন্ত এবং টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কাজটি গত অর্থবছরে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সড়কটি যথাযথভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত ওই জামানত ফেরত দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *