কচুয়ায় ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ গ্রাম পুলিশ আব্দুল কাদের
কচুয়া প্রতিনিধি : কচুয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ মো. আব্দুল কাদের নিখোঁজ হওয়ার ১৫ দিন পার হলেও এখনো তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সাচার-কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের নিখোঁজের ঘটনায় স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ও তিন সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে কচুয়া উপজেলার বারৈয়ারা এলাকা থেকে সিএনজিযোগে দাউদকান্দি উপজেলার মলয় বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন আব্দুল কাদের। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
নিখোঁজের পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। তবে মোবাইল ফোন দুটি পাওয়া গেলেও আব্দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, জিডি করার পরও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আব্দুল কাদেরকে উদ্ধারে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বলেন, তার স্বামী গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাচার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে দাউদকান্দি উপজেলার পিপিয়াকান্দি গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন রাবেয়া।
রাবেয়া আক্তারের ভাষ্য, হুমকির ঘটনার পর তার স্বামী কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।
স্বামীকে জীবিত অবস্থায় দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাবেয়া আক্তার।
এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ তাদের সাধ্য অনুযায়ী আব্দুল কাদেরের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একজন গ্রাম পুলিশ টানা ১৫ দিন নিখোঁজ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আব্দুল কাদেরের সন্ধান বের করে দ্রুত তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিখোঁজ আব্দুল কাদেরকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

