শাহরাস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ৯৭ পদে পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৪৮৬ প্রার্থী

শাহরাস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ৯৭ পদে পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৪৮৬ প্রার্থী

উপজেলা সংবাদ শাহরাস্তি উপজেলা স্লাইড

শাহরাস্তি প্রতিনিধি : সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করতে বাস্তবায়নাধীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় শাহরাস্তি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৮৬ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া মেধা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় শাহরাস্তি উপজেলা অডিটোরিয়ামে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে চার সদস্যের নিয়োগ কমিটি পরীক্ষা পরিচালনা করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৩৯০ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৯৬ জনসহ মোট ৪৮৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৮৯ জন এবং সুপারভাইজার হিসেবে ৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নিয়োগের যোগ্যতায়ও রয়েছে নির্ধারিত মানদণ্ড। সুপারভাইজার পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম স্নাতক এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারীদের ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্বাচিতরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। যাচাই শেষে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

উপজেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের জন্য ২৯ জুলাই পৃথক মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে। আগামী ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কেবল তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প নয়; এটি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাই দায়িত্বশীল, সৎ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “একটি ভুল তথ্য কিংবা অযোগ্য ব্যক্তির অসতর্কতার কারণে যেন কোনো প্রকৃত দরিদ্র পরিবার রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

ইউএনও আরও জানান, সরকার পরিবারভিত্তিক একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, বিভিন্ন ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এতে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা গ্রহণ কিংবা অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির সুযোগ কমবে। পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তাদের ভাষ্য, শাহরাস্তিতে শুরু হওয়া এই নিয়োগ কার্যক্রম শুধু ৯৭ জন জনবল নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করার বৃহত্তর উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *