নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকায় হঠাৎ ডাকাতিয়া নদীর তীরে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন পাটোয়ারী বাড়ির প্রায় ৩০টি পরিবার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত ঠেকানো না গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
রঘুনাথপুর ওয়াবদা সংলগ্ন পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় মোহসিন পাটোয়ারী, মহিউদ্দিন পাটোয়ারী, আহসান পাটোয়ারী, শরীফ পাটোয়ারী, ফারুক পাটোয়ারী, সুলতান, হারুন ও শহিদসহ প্রায় ২০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি ওই এলাকার ডাকাতিয়া নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনের নতুন নতুন অংশ তৈরি হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের কাছে বসতভিটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ হওয়ায় নদীর পাড় চোখের সামনে ভাঙতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে শুধু পাটোয়ারী বাড়ির কয়েকটি পরিবার নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তারা জানান, নদীভাঙন শুরু হওয়ার পর দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ জন্য ভাঙনস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর স্রোত ও তীরের পরিস্থিতি পরিমাপের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা অথবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের দাবি তাদের।
চাঁদপুরে নদীভাঙন অবশ্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর ভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর কিছু জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছিল। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, এখনই ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতভিটা রক্ষার পাশাপাশি পুনর্বাসনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় স্থায়ী সমাধান কবে হবে? তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

