শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফরিদগঞ্জ থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই মাদক সংশ্লিষ্ট ১৩২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। পরিস্থিতি স্থানীয় পরিবার, সামাজিক কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলছে।
উপজেলায় মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার বিস্তার দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক ভাঙন এবং নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তির কারণে অনেক পরিবারে নিয়মিত কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। সন্তানদের মাদকাসক্তির কারণে বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উপজেলায় মোট ৯৭টি মাদক মামলা হয় এবং ১৪৯ জন আসামিকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—মাত্র ছয় মাসেই মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩২টি এবং গ্রেপ্তার ১৭৩ জনে পৌঁছে যায়। এই প্রবণতা মাদক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক স্থানে গাঁজার গাছও জব্দ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মাদক কারবার ও সেবনের প্রবণতা কমছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছে। সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশের পাশাপাশি কিছু এলাকায় রাতের বেলায় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করছে এবং আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, উপজেলায় মাদকের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। তবে জনসচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতা ছাড়া সম্পূর্ণভাবে মাদক নির্মূল সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

