মতলবে সড়কের নিচে ড্রেজার পাইপ, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

মতলবে সড়কের নিচে ড্রেজার পাইপ, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

উপজেলা সংবাদ মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্লাইড

মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজার এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের অভিযোগে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে পাইপ বসানোর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেতরে ফাঁপা সৃষ্টি হওয়ায় যেকোনো সময় সড়ক ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে আল-বারাকা মডেল স্কুল সংলগ্ন চাঁদপুর-বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই আঞ্চলিক সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জিসান আহমেদের মালিকানাধীন ড্রেজারের মাধ্যমে খাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এই পাইপ বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রানা প্রধানের প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য এই আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটও এটি।

বাসিন্দারা জানান, আগে ড্রেজারের পাইপ সড়কের ওপর দিয়ে নেওয়া হলেও এবার নতুন কৌশলে সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়কের নিচের মাটি ব্যাপকভাবে সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ৩ নম্বর খাদের গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। একইভাবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকেও পাইপ অপসারণ বা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অবৈধ বালু উত্তোলন চলতে থাকবে এবং যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *