শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু : ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রাঃ) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ বছর ধরে দুটি সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে একযোগে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একলাছপুর পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টার (ইডিএ) হিসেবেও কর্মরত থেকে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত বেতন গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১ ধারার ১০ উপধারায় উল্লেখ রয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অন্য কোনো লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকলে তার এমপিও সুবিধা বাতিলের বিধান রয়েছে। ফলে অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দ্বৈত চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন, ২০১৫ সাল থেকেই তিনি জানতেন একই সঙ্গে দুটি চাকরি করা নিয়মসঙ্গত নয়। তবে এতদিন চাকরি চালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে পোস্ট মাস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে জুন মাসের বেতন উত্তোলনের তথ্য তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করায় ওই বেতন নিয়েছিলেন, পরে তা ফেরত জমা দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্ট মাস্টার আনিছুর রহমান জানান, ইকরাম হোসেন হামিদ জুন মাসের বেতন গ্রহণ করেছেন। তবে তার দপ্তরে এখন পর্যন্ত কোনো পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের বেতনের রোলও এসেছে, কিন্তু জেলা পোস্ট পরিদর্শকের মৌখিক নির্দেশে ওই বেতন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পোস্ট মাস্টারদের বেতন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে iBAS++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইকরাম হোসেন হামিদও পোস্ট মাস্টারের বেতন আইবাসের মাধ্যমে গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তখন তাকে জানানো হয়, একই ব্যক্তি দুটি পৃথক আইবাস আইডির মাধ্যমে সরকারি বেতন গ্রহণ করতে পারবেন না।
চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, অভিযোগটি তার দপ্তরের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী মাস থেকে ইকরাম হোসেন হামিদের নামে পোস্ট মাস্টারের বেতনের রোল পাঠানো হবে না।
অন্যদিকে, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর দাখিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়েছিলেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চলতি জুলাই মাসেও তার নামে পোস্ট মাস্টারের বেতনের রোল আসায় দ্বৈত চাকরির অভিযোগ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

