আরিফুর রহমান / সোহেল : ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের কামতা বাজার এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাটি কেটে নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া মাটি না কাটার লিখিত অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করেছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনের বিল এলাকা থেকে দক্ষিণে গল্পাক বাজার, পশ্চিমে ওয়াপদার খাল, উত্তরে মুন্সিরহাট বাজার এবং পূর্ব পাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি দীর্ঘদিন ধরে কেটে নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমে একটি প্রভাবশালী মহল কৃষিজমির উর্বর মাটি অপসারণ করে বিক্রি করে থাকে। এতে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ভাঙন ও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
৩ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করেন। পরে ভূমির মালিক মিজানুর রহমানের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া আর মাটি কাটা হবে না।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত না থাকার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় থাকা মাটি বহনকারী ট্রলার ও মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেখানে ড্রেজার, এক্সকাভেটর বা ভেকু ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়, সেখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং কৃষকদের জীবিকা রক্ষায় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

