ড্যাফোডিলে অর্থবহ পর্যটন নিয়ে জাতীয় গোলটেবিল অনুষ্ঠিত

ড্যাফোডিলে অর্থবহ পর্যটন নিয়ে জাতীয় গোলটেবিল অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংবাদ প্রধান সংবাদ

মাহমুদুর রহমান, ঢাকা থেকে : ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘অর্থবহ পর্যটন: পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আয়োজিত এ বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের শীর্ষস্থানীয় অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচনায় পর্যটনের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বৈশ্বিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জার্মানির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জি আর্ল্ট মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও অর্থবহ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কৌশল, পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ‘অর্থবহ পর্যটন’ ধারণাকে এমন একটি উন্নয়ন কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য অর্থনৈতিক সুফলের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যও নিশ্চিত করবে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাবৃত্তি অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুব পারভেজ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রকিবুল কবির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন।

বৈঠকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল হক হাওলাদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) মো. জালাল উদ্দিন টিপু, পাটা বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মো. তওফিক রহমান, নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার পরিচালক (বিপণন) রিজওয়ান মারুফ, ওয়েস্টিন ঢাকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পর্যটকদের পরিবর্তিত চাহিদা বিশ্ব পর্যটন খাতের ব্যবসায়িক কাঠামো বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পরিবর্তন নতুন সেবা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং নতুন পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করছে।

বক্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির ক্ষতি, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ (ওভার-ট্যুরিজম) এবং পর্যটন আয়ের বিদেশমুখী প্রবাহের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশের পর্যটন শিল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

গোলটেবিলে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। ২০২৫ সালে দেশে মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন এবং তারা ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও বেশি মানুষের আবাসস্থল হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটকের মাত্র ০.০৫ শতাংশ বাংলাদেশে এসেছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সেবার মান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক উৎসবাজারকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারবে।

আলোচনায় জানানো হয়, অধ্যাপক ড. উলফগ্যাং জর্জি আর্ল্ট প্রতিষ্ঠিত লন্ডন ও কাঠমান্ডুভিত্তিক এমটিসি মিনিংফুল ট্যুরিজম সেন্টার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে ‘মিনিংফুল ট্যুরিজম ইনোভেশন ল্যাব বাংলাদেশ’ চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে অর্থবহ পর্যটনভিত্তিক কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা হবে।

এছাড়া জানানো হয়, প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ‘মিনিংফুল ট্যুরিজম ইকোনমি’ গড়ে তোলাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *