নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে চাঁদপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি পালনে আলোচনা সভা, ফুটবল ম্যাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। দিবসটির মূল চেতনা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হবে ফুটবল ম্যাচ। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সড়কদ্বীপ ও বিভিন্ন সড়ক পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও পৃথক কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের আসর, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। শিশুদের জন্য সব শিশু পার্ক বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখার কর্মসূচিও রয়েছে।
সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফজলে রাব্বি পিভিএম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক এবং মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল আমিন বাশির, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল জুবায়ের, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রহিমা আক্তার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সেলিম সরকার, ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মন্টু বিশ্বাস, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি মো. আব্দুস সামাদ এবং জেলা কারাগারের জেলার প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা মো. রাকিব শেখ।
এ ছাড়া সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক উম্মে রায়হানা ফেরদৌস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক সুমন খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মো. জয়নাল আবেদীন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাউন্ড অপারেটর মো. মামুন হোসেন, শিশু একাডেমি চাঁদপুরের প্রশিক্ষক অভিজিত রায়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভা পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা।

