মাহমুদুর রহমান, ঢাকা থেকে : ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট কংগ্রেস (জিএসডিসি) ২০২৬-এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
সোমবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত “ড্রাইভিং চেঞ্জ: হাউ সাউথ এশিয়ান হায়ার এডুকেশন পাওয়ারস দ্য এসডিজিস” শীর্ষক সেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। সেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আলোচনায় ড. সবুর খান দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এসডিজি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তিনি বিশেষভাবে যুবসমাজের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ড. সবুর খান বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষাদান, গবেষণা, ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততার প্রতিটি স্তরে টেকসই উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব।
সেশনে তিনি ডিআইইউর এসডিজি-৪ (গুণগত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব)-এ অবদানের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, উদ্যোক্তা বিকাশ, ডিজিটাল উদ্ভাবনের প্রসার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ডিআইইউ ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করে চলেছে।
আয়োজকরা জানান, এ সেশনটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

