মতলব দক্ষিণে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ

মতলব দক্ষিণে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ

উপজেলা সংবাদ মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্লাইড

মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার বদরপুর গ্রামে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. হেলাল পাটোয়ারী তার বাড়ির পাশের ফসলি জমি থেকে কয়েকদিন ধরে মাটি কেটে পাওয়ার ট্রলি (ট্রাক্টর) যোগে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ কার্যক্রমে আশপাশের কৃষিজমির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি এলাকার ভূমির স্বাভাবিক গঠনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত প্রায় পাঁচ দিন ধরে রাতের বেলায় ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি পরিবহনের সুবিধার্থে বদরপুর ও.এস. দাখিল মাদ্রাসার পাশের সরকারি রাস্তার একটি অংশও কেটে ফেলা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, মাসুদ নামে এক ব্যক্তি পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং অবৈধভাবে মাটি বিক্রির বিষয়টি দেখভাল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে নারায়ণপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে প্রশাসনের ওই নির্দেশনার পরও রাতের বেলায় মাটি কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, পুকুর খননের কথা বলে ফসলি জমি থেকে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রলি হিসেবে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। তারা অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হেলাল পাটোয়ারী মাটি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি মাছ চাষের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে একটি পুকুর খনন করছি। মাটি বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়।”

এদিকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আশ্রাফ আলী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কৃষিজমি থেকে অনুমোদন ছাড়া মাটি কাটা ও বিক্রি পরিবেশ, কৃষি উৎপাদন এবং ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *