ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

উপজেলা সংবাদ মতলব উত্তর উপজেলা স্লাইড

মতলব উত্তর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে উপজেলার ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ক্রীড়া ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেননি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি। তিনি দাবি করেছেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেই ক্রীড়া ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি, মতলব উত্তর উপজেলার রসিদ ব্যবহার করে সদ্য গঠিত মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে উপজেলার ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ক্রীড়া ফি হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে।

ছিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল হক পাটোয়ারী বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও একাডেমিক সুপারভাইজারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির নামে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিক্ষক সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

তাঁরা জানান, গত মাসেও শিক্ষক সমাবেশের কথা বলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষকদের আরও দাবি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামেও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ধার্য করা হয়। অনেক প্রধান শিক্ষক এসব অর্থ দিতে অনিচ্ছুক হলেও সমিতির চাপের কারণে টাকা দিতে বাধ্য হন।

তাঁদের অভিযোগ, সংগৃহীত অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায় না। টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত কোনো রেজুলেশন করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এতে শিক্ষক সমিতির নামে আদায় করা অর্থের হিসাব ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ে ক্রীড়া ফি বাবদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকেও রসিদের মাধ্যমে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্লা বলেন, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকেও রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুকুল আলম বলেন, উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া ফি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মোট প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন হবে।

এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে জানতে চাইলে তিনি চাঁদপুরে আছেন জানিয়ে ফোন রেখে দেন।

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা করে ক্রীড়া খরচের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে থাকলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রতি বছরই হয়। তবে শিক্ষক সমিতি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস রসিদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করছে—এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *