মতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় কেরির ট্যাবলেট খেয়ে এক ব্যক্তি এবং গলায় ফাঁস দিয়ে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ও সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে কেরির ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দীপক মন্ডল (৪৫)। পরে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী দীপক মন্ডল পারিবারিকভাবে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে হতাশ হয়ে কীটনাশক জাতীয় কেরির ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অন্য ঘটনায়, ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ফাহিমা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের সায়েদ আলী কারির মেয়ে।
পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ফাহিমা মোবাইল ফোনে টিকটক করত। তার ব্যবহৃত ফোনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর নতুন মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য সে বাবা-মায়ের কাছে আবদার করে। পরিবার থেকে পরে মোবাইল কিনে দেওয়ার কথা বলা হলেও এতে বিলম্ব হওয়ায় হতাশ হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দুটি ঘটনাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। উভয় ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, পৃথক দুটি ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দুজনই আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

