গোপনে তালাকের ঘোষণাপত্র, দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় মরিয়ম

গোপনে তালাকের ঘোষণাপত্র, দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় মরিয়ম

উপজেলা সংবাদ চাঁদপুর সদর প্রধান সংবাদ

আরিফুর রহমান সাগর : চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটিতে প্রায় এক বছর আগে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাকের ঘোষণাপত্র তৈরি হলেও স্ত্রীকে সময়মতো জানানোর অভিযোগ ওঠেনি। বিষয়টি জানার পর দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মরিয়ম আক্তার ও তার পরিবার।

মরিয়মের পরিবারের দাবি, আশিকাটি এলাকার মৃত কুদ্দুস গাজী বাচ্চুর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম গাজীর সঙ্গে বড় সুন্দর গ্রামের শাহ আলম মিজির মেয়ে মরিয়ম আক্তারের ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের পর কয়েক বছর সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও একপর্যায়ে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে সাইফুল ইসলাম স্ত্রীর গয়না এবং মরিয়মের পরিবারের কাছ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নেন। এরপর তিনি বিদেশে চলে যান।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে সাইফুল ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানদের যথাযথ খোঁজখবর এবং ভরণপোষণ দেননি।

পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সাইফুল ইসলাম একটি তালাকের ঘোষণাপত্র তৈরি করেন। তবে ওই সময় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার কিংবা তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

প্রায় নয় মাস পর ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ফোন করে তালাকের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান কার্যালয় থেকে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট কাগজ সংগ্রহ করতে বলা হয় বলে দাবি মরিয়মের পরিবারের।

পরে মরিয়মের মা সংশ্লিষ্ট কাগজ সংগ্রহ করে দেখতে পান, তালাকের ঘোষণাপত্রটি প্রায় এক বছর আগেই তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর মরিয়ম ও তার পরিবার হতাশ হয়ে পড়েন বলে তারা জানিয়েছেন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘোষণাপত্রে দেনমোহরের বিষয় উল্লেখ থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।

এ ঘটনায় মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর আমলি আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মরিয়মের পরিবারের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ, ভরণপোষণ এবং স্ত্রীর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।

তারা এ ঘটনার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান চান।

এদিকে, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা তালাকের ঘোষণাপত্রে মো. সাইফুল ইসলাম গাজীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করেছে মরিয়মের পরিবার।

তবে তালাকের ঘোষণাপত্রটির আইনগত কার্যকারিতা, দেনমোহর পরিশোধের বিষয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *