কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শাহরাস্তি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শাহরাস্তি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা

উপজেলা সংবাদ শাহরাস্তি উপজেলা স্লাইড

জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা জুড়ে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গাছপালা উপড়ে পড়া, কৃষিজমি নষ্ট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঈদুল আজহার প্রস্তুতির সময় এ দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহরাস্তি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিজমেহার পূর্বপাড়া চাঁদগাজী বাড়িতে প্রবাসী ইমরান হোসেনের বসতঘরের ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এতে মুহূর্তেই পরিবারের দুটি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদে সরে যেতে পারায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের নুনিয়া ব্যাপারি বাড়ির দিনমজুর আবু বকর সিদ্দিক এবং নিজমেহার মিয়াজী বাড়ির মনি বেগমের ঘরবাড়িও ঝড়ে গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘর উড়ে যাওয়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। বিলম্বে রোপণ করা ধান, বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ক্ষেত এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ঘাস ও গোখাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক নিম্নআয়ের কৃষক পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

অন্যদিকে সামনে ঈদুল আজহা থাকায় কোরবানির পশুর হাট ঘিরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের পর বাজার ও হাটে পানি জমে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

শাহরাস্তি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিজাম উদ্দিন সামস্ জানান, ঝড়ের কারণে উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, দুর্যোগের পর থেকেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম এবং সড়ক সচল রাখতে কাজ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, কালবৈশাখীর এ তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে অনেক পরিবার মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *