ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জ উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ইমারত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আসাদুজ্জামান মিয়া প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাটিলা এলাকায় মৃত আব্দুল সাত্তার পাটোয়ারীর ছেলে প্রবাসী মো. আসাদুজ্জামান মিয়ার দায়ের করা নিষেধাজ্ঞা মামলার প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত আ. মজিদের ছেলে রফিক পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই প্রবাসী আসাদুজ্জামান মিয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে ৭৭ নম্বর হাটিলা মৌজার বিএস ৩৯৯ খতিয়ানের ৮ শতাংশ জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিক পাটোয়ারী ও আক্তার হোসেনের স্ত্রী শামসুর নাহার বেগমকে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা দেওয়ার কয়েকদিন পরও প্রতিপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুনরায় ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এখন আদালতের আদেশ কার্যকর এবং বিরোধপূর্ণ জমি রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
প্রবাসীর বেয়াই আক্তার হোসেন বলেন, পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন সালিস বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রহিম পাটোয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষ সিদ্ধান্ত মানেননি। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রফিক পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে জারি করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

