ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে আদালতের জারি করা স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল এবং পাকা ভবন নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হওয়ার দাবি করে উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ সুরমা বেগম (৩৫) ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফরিদগঞ্জ থানার উত্তর সাহেবগঞ্জ (ফজল বেপারী বাড়ি) এলাকার মোসাঃ সুরমা বেগমের সঙ্গে একই এলাকার মোঃ মমিন হোসেন (৩০) ও মোঃ মাসুদ (৩২)-এর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানি বণ্টন মামলা (নং-২৪৪৫/২৬) বিচারাধীন রয়েছে এবং মামলায় আদালতের পক্ষ থেকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৮ জুলাই সকাল প্রায় ৯টার দিকে ইট, বালি, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী এনে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এতে বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সুরমা বেগম। তিনি জানান, হামলায় আহত হয়ে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুরমা বেগম আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস হলেও তা কার্যকর হয়নি। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে বিবাদীপক্ষ হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দাবিতে তিনি ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এসআই জাকির হোসেনকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগে অভিযুক্তরা উশৃঙ্খল প্রকৃতির এবং পুলিশের নির্দেশও মানছে না। এ কারণে বাদীকে আদালতে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোঃ মমিন হোসেন অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, তাদের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন পুলিশ এসে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।

