আরিফুর রহমান ও সোহেল : হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের কমলাপুর পাটোয়ারী বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি ও পুকুরের পাড় ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত সুমি আক্তার বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর আলগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর পাটোয়ারী বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি ও পুকুরের পাড় ব্যবহার নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুমি আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. মুক্তার পাটোয়ারী (পিতা: মৃত জিতু পাটোয়ারী), কোহিনুর বেগম (স্বামী: মুক্তার পাটোয়ারী) এবং আলপনা বেগম (স্বামী: সজীব পাটোয়ারী)-এর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের সবার বাড়ি একই এলাকার কমলাপুর পাটোয়ারী বাড়িতে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর সুমি আক্তার হাইমচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে। তবে পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে রোকসোনা আক্তার (স্বামী: রাসেল মিয়া), রাবেয়া বেগম, জান্নাতসহ অভিযুক্ত পক্ষের আরও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন তাদের বাড়িতে এসে পুনরায় হামলা চালান।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় তারা ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভিডিও ও অন্যান্য সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলেন। পরে মোবাইল ফোনটি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া লোহার রড দিয়ে আঘাত, কিল-ঘুষি এবং নখের আঁচড়ে সুমি আক্তারকে আহত করা হয় বলে পরিবারের দাবি। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি পুনরায় হাইমচর থানাকে অবহিত করা হলে পুলিশ আহত সুমি আক্তারকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সুমি আক্তারের ছেলে-মেয়েদেরও বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে হাইমচর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

