ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : ফরিদগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অসংগতি দূর করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। এতে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন এইচএসসি পরীক্ষা শেষে দুই থেকে তিনটি কলেজের শিক্ষার্থীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। পরে দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা, ভারী বৃষ্টি ও কর্দমাক্ত সড়কের মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রে ভুল, দূরবর্তী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ এবং কিছু শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং পুলিশ সদস্যরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন আটকা পড়ে।
পরে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শামীম হৃদয়, নাহিদ, আহসান জুবায়ের, শাহিন ও শিহাব জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। তারা পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন, শিক্ষকদের দুর্ব্যবহারের প্রতিকারসহ ৬ দফা দাবিতে ইউএনওর মাধ্যমে স্মারকলিপি জমা দেন।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচির সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা হামলার প্রতিবাদ জানান।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়। পরে তারা স্মারকলিপি দিলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সড়ক ছেড়ে দিয়ে আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন। এরপর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

